দ্বীনের সামগ্রিকতা ও প্রকৃত দ্বীনদারি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

দ্বীন একটি পরিপূর্ণ সামগ্রিক ও সর্বব্যাপী জীবনব্যবস্থা। মানবজীবনের প্রতিটি কর্ম ও পদক্ষেপ, প্রতিটি ক্ষেত্র ও অনুষঙ্গ, প্রতিটি ধাপ ও স্তর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গন কোনো কিছুই দ্বীনের আওতার বাইরে নয়। 

দ্বীন বলতে বোঝায় এই সকল বিষয়কে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ও নিয়ম অনুসারে, পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে পরিচালনা করা। দ্বীন জীবন-বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়। বরং জীবনটাই দ্বীন। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক জীবন সবই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যদি তা আল্লাহর বিধান ও সীমারেখা অনুসারে পরিচালিত হয়। তা না হলে এই জীবনটাই বদ্দীনে পরিণত হয়।

মূলত দ্বীনের বিধানসমূহ হলো আল্লাহ প্রদত্ত কিছু সীমারেখা। মানুষ তার সামগ্রিক জীবন সেই সীমারেখার ভেতর পরিচালিত করাটাই দ্বীন। আল্লাহ প্রদত্ত সেই সীমারেখার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় কোনটি দ্বীন আর কোনটি বদ্দীন। যা সীমার ভিতরে তা হালাল ও দ্বীন হিসেবে গণ্য হয়; আর যা সীমার বাইরে তা হারাম এবং বদ্দীন হিসেবে গণ্য হয়। হালাল গ্রহণযোগ্য, আর হারাম বর্জনীয়। তবে হালাল গ্রহণ আর হারাম বর্জনেরও কিছু সীমা রয়েছে। যেমন- খাদ্য হালাল হলেও অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলে তা বৈধ নয়। ইবাদতের ক্ষেত্রেও রয়েছে সীমারেখা। অতিরঞ্জন করলে ইবাদত আর ইবাদত থাকে না। এ কারণেই ‘সাওমে বিসাল’ (নিরবিচ্ছন্ন রোজা রাখা) নিষিদ্ধ। কেননা, তা ইবাদতে সীমা লঙ্ঘন। তদ্রূপ বিশেষ পরিস্থিতিতে হারাম কাজও ফরজ হয়ে যায়। যেমন – মৃত প্রাণীর মাংস খাওয়া হারাম হলেও, জীবন রক্ষার প্রয়োজন হলে তা ফরজ হয়ে যায়। কেউ যদি তা না খেয়ে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে গুনাহগার হবে। 

ব্যক্তি পর্যায়ে যেমন দ্বীনের সীমারেখা মেনে চলা অপরিহার্য, তেমনি পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দ্বীনের সীমারেখা মেনে চলা অপরিহার্য। কোনো একটি ক্ষেত্রে অবহেলা করলে অথবা একটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে অন্য ক্ষেত্রে উদাসীন হয়ে পড়লে তা হবে সীমালঙ্ঘন। 

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় – কেউ ব্যক্তি পর্যায়ে দ্বীন মেনে চলে, কিন্তু পারিবারিক দায়িত্বে অবহেলা করে তাহলে সে সীমা লঙ্ঘন করছে। অথবা কেউ পরিবার নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব সম্পর্কে উদাসীন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেয় না, তাদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছায় না – এটাও সীমালঙ্গন। দ্বীনের মধ্যে ব্যক্তির সামর্থ্য অনুসারে রাষ্ট্র, উম্মাহ ও বিশ্বমানবতার প্রতিরয়েছে দায়িত্ব। সেই দায়িত্বও পালন করতে হবে। কারো সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণ রূপে পালন না করলে তা সীমা লঙ্ঘন হিসেবে গন্য হবে। আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করা বড় জুলুম, অন্যায় ও অবিচার। আল্লাহ তাআলা বলেন :

}تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ{ [البقرة: 229[

“এসবই আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, সুতরাং তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তারাই তো জালিম।” (সূরা আল-বাকারা: ২:২২৯)

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ মূলনীতি হলো দায়িত্ব পরিপূর্ণ রূপে পালন করা। আংশিক বা অসম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন সর্ব ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। দ্বীনী দায়িত্বের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। মানুষের জীবন একক বিষয় নয়, বরং যৌথ বিষয়। আর তাই জীবনে রয়েছে বহু বিধান ও বহু দায়িত্ব, যার একটি অন্যটির সঙ্গে যুক্ত। বিশেষত আল্লাহর হকের সঙ্গে বান্দার হক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আল্লাহ তাআলা চান প্রতিটি হকই পূর্ণাঙ্গভাবে পালিত হোক। তাই আল্লাহ তাআলা রোজার হুকুম দিয়ে তারই সাথে অন্যায় কথা ও কাজ পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হজ পালনের হুকুম দিয়েছেন তো ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকারও আদেশ করেছেন। সাদকা দেওয়ার পর খোঁটা দিয়ে তা নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। 

পূর্ণ দায়িত্ব পালন করাই হলো প্রকৃত আনুগত্য। আংশিক বা অসম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন প্রকৃত আনুগত্য নয়। বান্দা সামগ্রিক ভাবে দ্বীন পালন করলে অথবা কমপক্ষে সামগ্রিক দ্বীন পালনের চেষ্টা করলে তা হবে রবের আনুগত্য। দ্বীনের কিছু অংশ পালন আর কিছু অংশ বর্জন কখনোই রবের আনুগত্য নয়। বরং তা দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞতা অথবা প্রবৃত্তির অনুকরণ। ফলে আংশিক দ্বীন পালনের মাধ্যমে রবের সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে না।

বিষয়টি আমরা একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বুঝতে পারি। পিতার বড় সন্তানের দায়িত্ব হলো পিতাকে সম্মান করা ও ছোট ভাইকে আদর স্নেহ করা। যদি সে পিতাকে সম্মান করে আর ছোট ভাইকে প্রহার করে; পিতার কাছে কি আদৌ তা গ্রহণযোগ্য হবে? পিতা কি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন? কখনোই না। যদি সে বলে, “আমি তো আপনাকে সম্মান করছি, ছোট ভাইকে প্রহার করলে অসুবিধা কী?” পিতা বলবেন, “মাথায় তেল দিয়ে পিঠে কিল দিলে কি তা সম্মান হয়? সে তো আমারই সন্তান। তাকে প্রহার করা মানে তো আমাকে অবজ্ঞা করা, আমার নির্দেশ অমান্য করা। তুমি তোমার ভাইকে যতক্ষণ না আদর স্নেহ করছো, ততক্ষণ আমার প্রতি তোমার এই সম্মানে আমি সন্তুষ্ট নই।

এখানে দুটি বিষয় ভিন্ন হলেও একটির সঙ্গে অপরটি সঙ্গে জড়িত। একটিকে উপেক্ষা করলে অন্যটি গ্রহণযোগ্য থাকে না। ছোট ভাইকে স্নেহ না করে পিতাকে সম্মান করা গ্রহণযোগ্য নয়। তেমনি পিতাকে অবজ্ঞা করে ছোট ভাইকে স্নেহ করারও কোন অর্থ নেই। পিতা সন্তানের কাছে উভয়টি চান। যদি সন্তান একটি মানে এবং অপরটি না মানে, তাহলে তা পূর্ণ দায়িত্ব পালন হবে না এবং প্রকৃত আনুগত্য হবে না, বরং নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করা হবে।

এই উদাহরণ শুধু বোঝার জন্য। বাস্তবে আল্লাহর মর্যাদা তুলনাহীন। আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা। তিনি আমাদের মালিক এবং মুনিব। আমরা তার গোলাম। জগতের সকল কিছু তিনি আমাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের স্বার্থেই নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে তা পরিচালনা করছেন। আল্লাহর দান ও অনুগ্রহের সাথে পিতার ‍অনুগ্রের কোন তুলনাই হয় না। পিতার আনুগত্যের ক্ষেত্রে যদি পূর্ণ আনুগত্যই করতে হয়; আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে পূর্ণ আনুগত্য আবশ্যক হওয়া, অসম্পূর্ণ আনুগত্য গ্রহণযোগ্য না হওয়া বলাই বাহুল্য। আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে পূর্ণ আনুগত্য তখনই হবে, যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহ প্রদত্ত সকল বিধান ও দায়িত্ব পরিপূর্ণ রূপে পালন করা হবে। কিছু পালন আর কিছু বর্জন কখনোই প্রকৃত আনুগত্য নয়; ফলে তা গ্রহণযোগ্যও নয়। যদি এই অসম্পূর্ণ আনুগত্য ঈমান ও কুফর সংক্রান্ত বিধানে হয়, তবে ঈমানই সহীহ হয় না। আর যদি আমল সংক্রান্ত বিধানে হয়, তবে ‘আমলে সালেহ’ আদায় হবে না, যা ঈমানের দাবি। পূর্ণ ও প্রকৃত আনুগত্যের হলো ঈমান বিষয়ক ও আমল বিষয়ক, আল্লাহর হক সংক্রান্ত ও বান্দার হক সংক্রান্ত, ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তরজাতিক – সকল প্রকারে সকল বিধান পরিপূর্ণ রূপে পালন করা। অসম্পূর্ণ আনুগত্যের নিন্দা করে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে বলেছেন,

}أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} [البقرة: 85[

“তবে কি তোমরা কিতাবের (অর্থাৎ তাওরাতের) কিছু অংশে ঈমান রাখ এবং কিছু অংশ অস্বীকার কর? তাহলে বল, তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কী হতে পারে যে, পার্থিব জীবনে তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনা আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে কঠিনতর আযাবের দিকে? তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন”। (সূরা আল-বাকারা ২:৮৫)

এখানে আরেকটি বিষয় বোঝা জরুরি, তা হলো বিভিন্ন দায়িত্ব ও কাজের মাঝে কোনটি মূল আর কোনটি গৌণ, তা উপলব্ধি করা। উপরের উদাহরণ অনুযায়ী যদ বলি, পিতার প্রতি সম্মান ও ছোট ভাইর প্রতি স্নেহ এ দুটি আলাদা কাজ হলেও মূল দায়িত্ব পিতার প্রতি সম্মান। এটি এমন এক দায়িত্ব, যা পিতা থেকে কিছু না পেলেও পালন করতে হবে। কারণ পিতার যে দয়া ও অনুগ্রহ পূর্ব থেকেই সন্তানের প্রতি ছিল এবং সন্তানের ওপর পিতার যে মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা অনস্বীকার্য। তাই আমৃত্যু পিতার আনুগত্য ও সম্মান করতে হবে। মূলত পিতার প্রতি সম্মান ও মর্যাদার দাবির ভিত্তিতেই ছোট ভাইকে আদর স্নেহ করতে হয়। ব্যাপারটি এমন নয় যে, ছোট ভাইয়ের আদর স্নেহই মূল কাজ, আর তার ভিত্তিতে পিতাকে সম্মান করতে হয়।

অনুরূপ ভাবে দ্বীনী দায়িত্ব ও বিধান সমূহের ক্ষেত্রে বুঝতে হবে – মূল দায়িত্ব হলো আল্লাহর হক আদায় করা। তার অসীম সম্মান ও মহান মর্যাদা রক্ষা করা। সৃষ্টিপূর্ব থেকে তার অবারিত নেয়ামতের যে ঝর্ণাধারা আমাদের উপর প্রতিনিয়ত বয়ে চলছে, এর জন্য তার সামনে সেজদাবনত হওয়া, তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা। তার সুমহান মর্যাদা, সীমাহীন মহত্ত্ব ও অতুলনীয় বড়ত্ব এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতার দাবি হলো তার হকের সাথে তার বান্দাদের হক আদায় করা। তার একত্ববাদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বীকার করে সামগ্রিক ভাবে দ্বীন পালন করা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক – সকল অঙ্গনে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান সমূহ মেনে চলা।

সামগ্রিক ও সর্বাঙ্গিন দ্বীন পালনের প্রযোজনীয়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এক অঙ্গনে দ্বীন পালন করলে অপর অঙ্গন তা দ্বারা উপকৃত হয় এবং তাতেও দ্বীন পালন করা সহজ হয়। পক্ষান্তরে এক অঙ্গনে অবহেলা করলে অপর অঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাতে দ্বীন পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যক্তি যখন দ্বীন অনুযায়ী চলে, তখন পরিবার সমাজ প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র তার দ্বারা উপকৃত হয়। আবার পরিবার প্রতিষ্ঠান সমাজ ও রাষ্ট্রে দ্বীনের চর্চা থাকলে ব্যক্তির জন্য দ্বীনের উপর অটল থাকা সহজ হয়। বিপরীতে ব্যক্তি যদি বদ্দীন হয়, তখন পরিবার প্রতিষ্ঠান সমাজ ও রাষ্ট্র তার দ্বারা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর পরিবার দ্বীনদার না হলে, সমাজ প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র-ব্যাবস্থায় দ্বীন চর্চা না থাকলে ব্যক্তি এককভাবে তার দ্বীনদারি রক্ষা করতে পারে না। মূলত এই ধরনের বাস্তবতার দিকে ঈঙ্গিত করে কবি বলেছিলেন, 

 ہم اس كے پاسباں ہیں وہ پاسباں ہمارا “আমরা তার (কা’বা ঘরের) প্রহরী, আর সে আমাদের প্রহরী”

তবে বাস্তবেই যদি কেউ কোনো বিধান পালনে অপারগ হয়, তাহলে তা আল্লাহর কাছে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, [لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [الأنعام: 152}

যেমন – ছোট ভাই যদি নদীতে পড়ে যায়, আর বড় ভাই সাতার না জানার কারণে তাকে উদ্ধার করতে না পারে; তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না।

অসম্পূর্ণ আনুগত্য ও খণ্ডিত দ্বীন পালনের দুটি কারণের কোন একটি হতে পারে। এক. কেউ হয়তো বুঝেই না দ্বীন কী? আনুগত্য কী? প্রকৃত আনুগত্যের দাবি কি কি? ফলে সে নিজে যেমন বুঝেছে তেমন কিছু পালন করছে। এটি মূর্খতা, যা নিন্দনীয় ও পরিত্যাজ্য। দুই. কেউ বুঝেও নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য খণ্ডিতভাবে দ্বীন পালন করছে। এটি আনুগত্য তো নয়ই; বরং স্বার্থপরতা, অন্যায় ও জুলুম; যা পূর্ববর্তীটির চেয়েও ভয়াবহ। অতএব কেউ যদি না বুঝে আল্লাহ তাআলার অসম্পূর্ণ আনুগত্য করে, দ্বীনকে খণ্ডিতভাবে চর্চা করে, তা হবে জাহালত বা মূর্খতা। সে হবে দ্বীনের ব্যাপারে অজ্ঞ ও নির্বোধ। আর কেউ যদি জেনে-বুঝে তা করে, তবে সেটি হবে সীমালঙ্ঘন, জুলুম, অন্যায় ও অবিচার। এমন ব্যক্তি হলো জ্ঞানপাপী ও সীমালঙ্গন কারী। 

তবে অধিকাংশের ক্ষেত্রে জাহালতই মূল কারণ। এই জাহালত কোন অপারগতা নয়। বরং তা দ্বীনের ব্যপারে ‍অবহেলা ও উদাসীনতা। জাহালতের কারণে অনেকে মনে করে, বেশি বেশি নফল ইবাদত করাই কেবল দ্বীনদারি। তারা দ্বীনকে ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ রাখে। অথচ প্রকৃত দ্বীন এমন নয়। বরং ব্যক্তি পর্যায়ের ইবাদতের পাশাপাশি রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, ও বিশ্বমানবতার হক ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানা, অতপর তা পরিপূর্ণ রূপে পালন করই হলো প্রকৃত দ্বীনদারি। কেউ যদি পূর্ণ দায়িত্ব সম্পর্কে উদাসীন হয়ে কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতে লিপ্ত ও তৃপ্ত থাকে, তবে তা হয় মূর্খতা, না হয় স্বার্থপরতা ও ভণ্ডামি। এদের উদ্দেশ্য করেই আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেছিলেন:

يا عابد الحرمين لو أبصرتنا – لعلمت أنك في العبادة تلعب

“হারামাইনের হে আরামপ্রিয় সাধক! যদি তুমি আমাদের দেখতে, তবে বুঝতে পারতে, তুমি ইবাদতের নামে খেলছো মাত্র”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top